বাংলাদেশ
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে শ্বশুরবাড়িতে অনশনে প্রথম স্ত্রী
মানিকগঞ্জে এক ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে তিনদিন ধরে তার বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন প্রথম স্ত্রী, যাকে ইতিমধ্যে তালাকের নোটিস পাঠানো হয়েছে। হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা উজানপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে।
ঝগড়ার জের ধরে স্ত্রীকে একতরফা তালাক দেন প্রবাসফেরত স্বামী রহম আলী দেওয়ান (৫০)। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজনও করেন তিনি। তবে এতে বাধ সেধেছেন প্রথম স্ত্রী। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে ঠেকাতে তিনি গত চার দির ধরে শ্বশুরবাড়িতে অনশন করে যাচ্ছেন।
গত ( সোমবার) ১৭ জানুয়ারি হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা উজানপাড়ায় মধ্য রাতে একই গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে রহম আলীর দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন প্রথম স্ত্রী। পরে বিয়ে পণ্ড হলে ওই রাতেই রহম আলীর বাড়িতে অনশনে বসেন তালাকপ্রাপ্তা গৃহবধূ।
খবর পেয়ে ২০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাতে হরিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
সংসার জীবনে রহম আলী দেওয়ান তিন কন্যা সন্তানের জনক। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হলেও ছোট মেয়ে বর্তমান স্থানীয় ভাদিয়াখোলা ফিরোজা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে গত বছরের ২০ এপ্রিল গোপনে একতরফাভাবে স্ত্রীকে তালাক দেন রহম আলী দেওয়ান। তালাকের কপি ওই গৃহবধূর হাতে পৌঁছালে তালাকের বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে আইনগতভাবে তালাকটি সম্পন্ন না হওয়ায় গত বছরের ৬ মে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তালাক নোটিশ পাঠান স্বামী রহম আলী।
কিন্তু তালাক নোটিশটি গ্রহণ না করে ওই গৃহবধূ এলাকার লোকজনকে বিষয়টি মিমাংসার জন্য অবহিত করেন। কিন্তু বিভিন্নভাবে বিষয়টি সুরাহা করার চেষ্টা করলেও একটি মহলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ফলে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে।
এরই মধ্যে এলাকার কয়েকজন সমাজপতির প্ররোচণায় গত সোমবার (১৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে একই গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে রহম আলীর দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে হাজির হন ওই গৃহবধূ। পরে বিয়ে পণ্ড হলে ওই দিন রাতেই রহম আলীর বাড়ি অনশনে বসেন ওই গৃহবধূ।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী গৃহবধূ জানান, আর্থিক বিষয় দেখিয়ে একতরফাভাবে তাঁকে তালাক দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি স্বামীর সংসার করতে চান। এলাকার কয়েকজন মাতবরের কারণেই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। এখন দ্বিতীয় বিয়ে করানোর জন্য তাঁর স্বামীর পেছনে লেগেছেন,জানান রহম আলীর প্রথম স্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, সেখানে সমাজের প্রভাবশালী আব্দুর রব, ইয়াকুব আলী, হাসমত আলীসহ আরও অনেকেই ছিল। তাঁর উপন্থিতি টের পেয়ে বিয়ে বন্ধ করে তারা সবাই পালিয়ে যান। পরে তিনি শ্বশুরবাড়ি এসে অনশনে বসেন।
প্রতিবেশী এবং আত্মীদের দেয়া তথ্য থেকে জানা যায়, টাকা পয়সা নিয়ে ওই গৃহবধূ ও স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছে। রহম আলী দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। মেয়েদের ভোগবিলাসিতা ও দুই মেয়ের জামাইয়ের পেছনে টাকা পয়সা খরচ করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে স্বামী রহম আলী দেওয়ানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
উজানপাড়া সমাজের মাতব্বর জাফর আলী গণমাধ্যমকে জানান, শিবালয় উপজেলায় ইউপি নির্বাচন ৩১ জানুয়ারি। নির্বাচন শেষে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ নির্বাচনের দুএকদিন পর এ ব্যাপারে তাঁরা বসবেন।"
এ ব্যাপারে হরিরামপুর থানার ওসি সৈয়দ মিজানুর ইসলাম জানান, অনশনের ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনন্যা চৈতী
জাতীয়
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা
শপথ নেয়ার পরের দিন ভাষা শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৩ জন উপদেষ্টা নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও অন্য উপদেষ্টারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আই/এ
জাতীয়
উপদেষ্টা পরিষদকে অভিনন্দন জানালেন জাসদ
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন
বৃহস্পতিবার ( ৮ আগস্ট ) রাতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানান তারা।
বিবৃতিতে জানানো হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দেশে আর একটিও প্রাণহানি, হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা যেন না ঘটে তা নিশ্চিত হবে।”
বিবৃতিতে আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিসহ সংবিধানকে সমুন্নত রেখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সাথে আলোচনা করে সরকারের কর্ম পরিকল্পনার রূপরেখা দ্রুত প্রকাশ করে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা প্রশমিত করবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাথমিক ও প্রধান কাজ হিসেবে অনতিবিলম্বে দেশে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনজীবনে স্বাভাবিকতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাসদ নেতৃবৃন্দ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জাসদ জোর দাবি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ববর্তী সরকারের পদত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ পেশাজীবী ও হিন্দু ও আহমদীয়াসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হত্যা করা, মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ও নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হামলা-হত্যা-নির্যাতন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন-বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে হামলা, লুটপাট, জ্বালিয়ে ছারখার, দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, সাত বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্যসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভেঙে ফেলা এবং কুমিল্লার বীরচন্দ্র পাঠাগার, সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য জাদুঘর, কুড়িগ্রামের উত্তরবঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক শশীলজের ভেনাস ভাস্কর্য ভেঙে ফেলাসহ অগনিত শিল্পকর্ম ভেঙে ফেলার সব অপরাধ কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার।
জেডএস/
জাতীয়
তদবির থেকে বিরত থাকুন, দেশগঠনে পরামর্শ দিন : আসিফ মাহমুদ
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১৭ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন সরকার। এ উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুইজন প্রতিনিধি। এদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ। তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার পর ঘনিষ্ঠজনদের নিজেদের সুবিধার জন্য কোনো আবদার কিংবা তদবির করতে বারণ করেছেন। বরং দেশগঠনে কোনো পরামর্শ থাকলে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট করে এ অনুরোধ করেন।
পোস্টে এই তরুণ উপদেষ্টা লিখেছেন, ব্যক্তিগত লাভের আশায় আবদার, তদবির করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আমার সাথে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। দেশগঠনে পরামর্শ থাকলে জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ জনকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঢাকার বাইরে থাকায় তিন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আযম, বিধান রঞ্জন রায় এবং সুপ্রদীপ চাকমা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারা হলেন- ১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ২. ড. আসিফ নজরুল ৩. আদিলুর রহমান খান ৪. হাসান আরিফ ৫. তৌহিদ হোসেন ৬. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ৭. মো. নাহিদ ইসলাম ৮. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ৯. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ১০. সুপ্রদীপ চাকমা ১১. ফরিদা আখতার ১২. বিধান রঞ্জন রায় ১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান ১৪. নুরজাহান বেগম ১৫. শারমিন মুরশিদ ১৬. ফারুক-ই-আযম।
জেএইচ