বাংলাদেশ
বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণ চায় বাংলাদেশ
রাজধানী ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে বিশ্বব্যাংকের সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ। এর আওতায় ঢাকার চারপাশের নদী পুনরুদ্ধার ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য এ ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ঢাকা শহরের আশপাশের নদীগুলোর পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিনিয়োগ কর্মসূচি ডিজাইন করতে প্রযুক্তিগত সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকে এমন একটি প্রস্তাব জমা দেয়া হয়। তবে বাংলাদেশের এমন প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শহরকে বাঁচাতে একটি আম্ব্রেলা ইনভেস্টমেন্ট কর্মসূচির কথা বলেছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক আম্ব্রেলা বিনিয়োগ কর্মসূচির (ইউআইপি) নকশা করার জন্য একটি প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, যা ঢাকা শহরের চারপাশের নদীগুলোর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে ঢাকাকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সমন্বয়ে একটি টিম নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিশ্বব্যাংক সম্পদ সংগ্রহ করে কর্মসূচির আওতায় ঢাকার চারপাশের নদীর উন্নয়ন করবে। পরামর্শমূলক পরিষেবা দেয়ার জন্য একটি আন্তর্জাতিক গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছে। তারা এই প্রযুক্তিগত চুক্তির সঙ্গে জড়িত সরকারি স্টেকহোল্ডারদের প্রচেষ্টাকে সহযোগিতা করবে। কাঠামোগত ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক।
বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংককে জানায়, নদী পুনরুদ্ধার একটি জটিল বিষয়। কারণ এখানে অনেকগুলো সেক্টর এবং স্টেকহোল্ডার জড়িত রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে একত্রিক করবে। বিশ্বব্যাংকের সঠিক পরিকল্পনায় সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সামগ্রিক কৌশল এবং একটি সময়পোযোগী পদ্ধতির প্রয়োজন বিশ্বব্যাংক কার্যকরভাবে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। টেকনিক্যাল প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো প্রস্তাবিত আম্ব্রেলা প্রকল্প ঢাকার নদীগুলোর জন্য নকশা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধা দেবে। চলমান প্রচেষ্টার ওপর একটি বেসলাইন মূল্যায়ন, সমাধানের জন্য দিকনির্দেশনাসহ একটি সামগ্রিক কৌশলের বিকাশ প্রয়োজন। ঢাকার নদীগুলোর অধীনে প্রকল্পগুলোকে আরও ভালোভাবে অগ্রাধিকার, সারিবদ্ধ এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি রোডম্যাপ দরকার। এক্ষেত্রে টেকনিক্যাল অ্যাসিসটেন্স (টিএ) মূলত কৌশলগত পরিকল্পনা উন্নত করতে সহায়তা করবে।
টিএ প্রকল্পের আওতায় ডেটা সংগ্রহ, স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শ, প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট এবং আইনি কাঠামো পর্যালোচন হবে। বিদ্যমান প্রাসঙ্গিক পরিকল্পনা এবং প্রকল্পগুলোর মূল্যায়ন, সামগ্রিক ঢাকার চারপাশের নদী পরিকল্পনার অবস্থা আপডেট করা হবে। ঢাকার নদীর নকশা করার জন্য একটি আদর্শ পদ্ধতির প্রস্তাব করা হবে। ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি হাতিয়ার হিসেবে আম্ব্রেলা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। নদী পুনরুদ্ধারে সরকারের যৌথ প্রচেষ্টাকে একত্রিত করার জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরিতে সহায়তা করবে বিশ্বব্যাংক।
টিএ প্রকল্প মার্চ ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল এবং ২০২৩ সালের মার্চের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক এবং কনসালট্যান্ট স্টেকহোল্ডারসহ চলমান পরিকল্পনার কাজ চলমান। ২১টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে ৫১টি আলোচনা হয়েছে। এই পরামর্শগুলোতে নদী পুনরুদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট নগর পরিষেবা সম্পর্কিত পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফোকাল ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচটি প্রযুক্তিগত সভাও সংগঠিত হয়েছে।
উম্মে রুম্মান
জাতীয়
শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানালেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা
শপথ নেয়ার পরের দিন ভাষা শহীদদের স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
শুক্রবার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৩ জন উপদেষ্টা নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর আগে, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ও অন্য উপদেষ্টারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এক নতুন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
আই/এ
জাতীয়
উপদেষ্টা পরিষদকে অভিনন্দন জানালেন জাসদ
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুস এবং অন্য উপদেষ্টাদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন
বৃহস্পতিবার ( ৮ আগস্ট ) রাতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিনন্দন জানান তারা।
বিবৃতিতে জানানো হয়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দেশে আর একটিও প্রাণহানি, হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা যেন না ঘটে তা নিশ্চিত হবে।”
বিবৃতিতে আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতিসহ সংবিধানকে সমুন্নত রেখে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সাথে আলোচনা করে সরকারের কর্ম পরিকল্পনার রূপরেখা দ্রুত প্রকাশ করে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা প্রশমিত করবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাথমিক ও প্রধান কাজ হিসেবে অনতিবিলম্বে দেশে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনজীবনে স্বাভাবিকতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাসদ নেতৃবৃন্দ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
জাসদ জোর দাবি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ববর্তী সরকারের পদত্যাগের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যসহ পেশাজীবী ও হিন্দু ও আহমদীয়াসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও হত্যা করা, মন্দিরসহ ধর্মীয় স্থাপনায় হামলা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে ও নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে হামলা-হত্যা-নির্যাতন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন-বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে হামলা, লুটপাট, জ্বালিয়ে ছারখার, দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, সাত বীরশ্রেষ্ঠর ভাস্কর্যসহ ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভেঙে ফেলা এবং কুমিল্লার বীরচন্দ্র পাঠাগার, সুনামগঞ্জের ঐতিহ্য জাদুঘর, কুড়িগ্রামের উত্তরবঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক শশীলজের ভেনাস ভাস্কর্য ভেঙে ফেলাসহ অগনিত শিল্পকর্ম ভেঙে ফেলার সব অপরাধ কাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার।
জেডএস/
জাতীয়
তদবির থেকে বিরত থাকুন, দেশগঠনে পরামর্শ দিন : আসিফ মাহমুদ
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ১৭ সদস্যের অন্তবর্তীকালীন সরকার। এ উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুইজন প্রতিনিধি। এদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসিফ মাহমুদ। তিনি উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেয়ার পর ঘনিষ্ঠজনদের নিজেদের সুবিধার জন্য কোনো আবদার কিংবা তদবির করতে বারণ করেছেন। বরং দেশগঠনে কোনো পরামর্শ থাকলে দেয়ার অনুরোধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট করে এ অনুরোধ করেন।
পোস্টে এই তরুণ উপদেষ্টা লিখেছেন, ব্যক্তিগত লাভের আশায় আবদার, তদবির করা থেকে বিরত থাকুন। এতে করে আমার সাথে আপনার সম্পর্ক নষ্ট হতে পারে। দেশগঠনে পরামর্শ থাকলে জানাবেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ জনকে নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঢাকার বাইরে থাকায় তিন উপদেষ্টা ফারুক-ই-আযম, বিধান রঞ্জন রায় এবং সুপ্রদীপ চাকমা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারা হলেন- ১. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ২. ড. আসিফ নজরুল ৩. আদিলুর রহমান খান ৪. হাসান আরিফ ৫. তৌহিদ হোসেন ৬. সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান ৭. মো. নাহিদ ইসলাম ৮. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ৯. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ১০. সুপ্রদীপ চাকমা ১১. ফরিদা আখতার ১২. বিধান রঞ্জন রায় ১৩. আ.ফ.ম খালিদ হাসান ১৪. নুরজাহান বেগম ১৫. শারমিন মুরশিদ ১৬. ফারুক-ই-আযম।
জেএইচ